কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক স্থান লালন শাহের মাজার



বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার

বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার

“জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা, জাত গেল জাত গেল বলে” বাউল সম্রাট লালন শাহের এই গানটির মত আরোও প্রায় অর্ধশত গান শুনে নাই এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া কঠিন। লালন শাহ ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধকদের মধ্যে অন্যতম। মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়ার প্রানন্তকর চেষ্টায় তিনি মত্ত ছিলেন সারা জীবন। তিনি একাধারে বাউল সাধক, বাউল গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল। ১৭৭৪ সালে জন্ম এ মরমী সাধকের। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে এ মরমি ভাব সাধক মৃত্যুবরণ করেন বলে জানা যায়। কুষ্টিয়া শহরের অদূরে ছেঁউড়িয়ার মাটিতেই সমাহিত করা হয় বাউল সম্রাটকে। অতি জনপ্রিয় বাউল গানের স্রষ্টা হলেও তাঁর জীবন সম্পর্কে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় না। তিনি একজন বাঙালী যার জন্মস্থান বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার হারিশপুর গ্রামে।

লালন সাহের মৃত্যুর পর শিষ্যরা ছেঁউড়িয়ার মাটিতেই গড়ে তোলে মাজার বা স্থানীয়দের ভাষায় লালনের আঁখড়া। মূলত এ আঁখড়াটি লালন শাহ নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে তিনি তার শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন। তার সমাধি ঘিরে সারি সারি শিষ্যের কবর রয়েছে।

মহা সাধক লালন শাহের পূর্ণাঙ্গ মূর্তি

মহা সাধক লালন শাহের পূর্ণাঙ্গ মূর্তি

পরবর্তীতে এ মাজারটি বাউলদের তীর্থস্থানে রূপ নেয়। মাজারের একটু দূরেই ফটক এটিই মূলত মাজারের প্রবেশ দ্বার। প্রতি বছর তার মৃত্যুবার্ষিকীতে সাধু-ভক্তদের পাশাপাশি বাউল সম্রাটের টানে ছুটে আসে লাখো পর্যটকের দল। মাজারের পাশে রয়েছে লালন মিউজিয়াম। বেশকিছু দুর্লভ ছবিসহ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে লালনের একটি দরজা, লালনের বসার জলচকি ও ভক্তদের ঘটি-বাটি। মিউজিয়ামের প্রবেশ মূল্য মাত্র ২ টাকা। এখান থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবেন লালনের আবক্ষমূর্তি।

২০০৪ সালে ৩০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘লালন একাডেমি কমপ্লেক্স’ নামে মাজারের পাশেই স্থাপনার উদ্ভোধন করেন। অসম্ভব সুন্দর এ মাজারটিতে লালন সংগীতকে ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘লালন সংগীত বিদ্যালয়’। লালন কমপ্লেক্সে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে, যেখানে দূর্লভ কিছু পান্ডুলিপি ও সাধকের জীবন নিয়ে দেশ-বিদেশের নানা ভাষায় রচিত অনেক গবেষণাপত্র থেকে জ্ঞান আহরণের সুযোগও রয়েছে।

FormatFactoryDSC03834~1FormatFactoryUntitলালন ফকিরের আখড়াই বেড়াতে এসে ফিরে যাওয়া সময় মাজারের সামনে থেকে কিনে নিতে পারবেন লালন মূর্তি, লালনের মুখায়বব, বিভিন্ন ধরণের মুখোশ সহ লালন সম্পর্কিত মনঃমুগ্ধকর বিভিন্ন হস্ত শিল্প।

ঢাকা সহ দেশের প্রায় সকল বিভাগীয় শহর থেকে কুষ্টিয়াতে বাস সার্ভিসে যাওয়া যায় সহজেই। রাজধানীর কল্যানপুর-শ্যামলী ও গাবতলী থেকে হানিফ, শ্যামলী, এসবি, জেআর সহ বিভিন্ন নামে এসি নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে খুলনাগামী চিত্রা ও সুন্দরবন নামে আন্তঃনগর ট্রেনে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কুষ্টিয়া শহর থেকে দশ কি.মি দূরে পোড়াদহ স্টেশনে নেমে বাস অথবা সিএনজিতে কুষ্টিয়া শহরে যেতে পারবেন। এছাড়াও দেশের বিভাগীয় ও উল্লেখ্যযোগ্য শহর থেকে কুষ্টিয়াগামী ‍বিআরটিসি ও স্থানীয় আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস রয়েছে। কুষ্টিয়া শহর থেকে ২০/৩০টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে সহজেই লালন শাহের মাজারে যেতে পারবেন।

মইনুল ইসলাম
ছবিঃ আব্দুল্লাহ নোমান

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0