ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভুমি সাগর কন্যা মনপুরা



02বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন জেলা ভোলা। আর সে ভোলা থেকেও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। ১৩০০ শতাব্দীতে মনপুরা দ্বীপের উৎপত্তি। তবে সেখানে মানুষের বসবাস শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। দ্বীপটি বাকলা চন্দ্রদ্বীপের(বাখেরগঞ্জ-বরিশালের আদী নাম) জমিদারীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময় ইউরোপীয় পর্যটক মউনরিক, ডারথেমা লী ব্রাংক এবং সিজার ফেড্রিক এই দ্বীপ ভ্রমনে আসেন। এ সময় মিঃ মউনরিক এই দ্বীপকে উদ্ভিদবৈচিত্রপুর্ণ দ্বীপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি এই দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, পশুসম্পদ, মৎস্য সম্পদ দেখে অভিভুত হন। স্থানীয়দের সেকথা জানালে-স্থানীয় বাসিন্দারা সবাইকে বলে বেড়ান মউনরিক সাহেবের “মন” পুরা হইছে অর্থাৎ মন ভরে গেছে দ্বীপের সৌন্দর্য্য দেখে…। পরবর্তীতে মিঃ মউনরিকের নামানুসারে দ্বীপের পুর্নাংগ নাম করন করা হয় মনপুরা। অবশ্য এর নামকরনের আরো আনেক গল্পই প্রচলিত রয়েছে।

03ভোলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিন পুর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা নদীর মোহনায় মনপুরার অবস্থান। চারিদিকের জলরাশি প্রমত্তা মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে সর্বদা সিক্ত মনপুরার পলিমাটি। মনপুরার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে হাজার হাজার একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন। মনপুরার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল যেমন চরৎজাম্মুল, চরপাতিলা, চরজামশেদ, চরপিয়াল, চরনিজাম, লালচর, বালুয়ারচর, চরগোয়ালিয়া সহ প্রায় ১০ টি চরে বনবিভাগের সহায়তায় গড়ে উঠেছে নীরব সবুজ বিপ্লব। মাইলের পর মাইল বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। এখানে বাথানে হাজার হাজার মহিষ দেখতে পাবেন। মনপুরার মহিষের ঘন দুধ, দই খুব জনপ্রিয় এবং নারিকেল, তরমুজ আর বাঙ্গি উৎপন্ন হয় প্রচুর পরিমালে। মনপুরাতে একধরনে বিশাল সাইজের কুকুর আছে-যা দেখতে খুবই ভয়ংকর। অনেকটা সিংহের কেশরের মত লম্বা লম্বা লোমে আবৃত।জানা যায়-এই দ্বীপে যখন পর্তুগীজ জলদস্যুরা থাকতো-তারাই তাদের দেশ থেকে এই বিরল প্রজাতির কুকুর এখানে নিয়ে এসেছিল -যার বংশধরদের বিচরণ এখনো বিদ্যমান।

05স্থানীয়দের দাবি, ভ্রমণ-পিয়াসু মানুষকে আকর্ষণ করার মতো অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে সাগর কন্যা ‘মনপুরা’র। শীত মৌসুমে এর চিত্র ভিন্ন ধরনের। সুদূর সাইবেরিয়া থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখিদের আগমনে চরাঞ্চলগুলো যেন নতুন রূপ ধারণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে শীত মৌসুমে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। এর মধ্যে সিংহ ভাগই ভোলায় অবস্থান করে। তখন সাগর কন্যার মনপুরার চরে অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। দেশের অন্য সব পর্যটন কেন্দ্রের তুলনায় মনপুরার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মাইলের পর মাইল বৃক্ষের সবুজের সমাহার যেনো ক্যানভাসে আঁকা শিল্পীর নিপুণ হাতে ছোঁয়া। যেখানে নানান প্রজাতির গাছের সংখ্যা রয়েছে পাঁচ কোটিরও বেশি, রয়েছে একটি ল্যান্ডিং স্টেশন। যেখান থেকে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। দেখা যায়, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত।

যোগাযোগ ব্যাবস্থা বলতে একমাত্র লঞ্চ। প্রতিদিন বিকাল ৫ টায় একটি লঞ্চ মনপুরা হয়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে যা মনপুরা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরে আসে দুপুর ২ টায় । থাকার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আছে বেসরকারি ব্যবস্থাও। দাম একটু বেশি হলেও খেতে পারবেন সামুদ্রিক মাছ। নদী পথে ভ্রমনে অভ্যাস না থাকলে শীত এর সময় ভ্রমন নিরাপদ ও আনন্দদায়ক।

মইনুল ইসলাম

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
1Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0