ঘুরে এলাম রংপুরের তাজ হাট জমিদার বাড়ি



25e025a625a425e025a625be25e025a6259c25e025a625b925e025a625be25e025a6259f25e025a6259c25e025a625ae25e025a625bf25e025a625a625e025a625be25e025a625b025e025a625ac252বাংলা ১৪২১ পহেলা বৈশাখ। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গেলাম রংপুর। কারমাইকের অধ্যায়নরত আমার বন্ধু মিশুর উদ্দোগেই মূলত এ ভ্রমন। বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির এক পর্যায় গেলাম তাজ হাট জমিদার বাড়ি।

রংপুরের পুরোনো ঐতিহ্য যে স্থাপত্তগুলো ধরে রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম এই জমিদার বাড়ি। বাড়িটি কৃষি ইনস্টিটিউটের পাশে সবুজ গাছপালা পরিবেষ্টিত আর্কষর্ণীয় পরিবেশে অবস্থিত।

রংপুরের মাহিগঞ্জ তাজহাট এলাকায় প্রজা হিতৈষী জমিদার গোবিন্দ লাল রায়ের পুত্র গোপাল লাল রায়ের বাড়িটি নির্মাণ করেন। এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মান্নানলাল রায়। তিনি  সুদূর পাঞ্চাব হতে রংপুরের বিশিষ্ট সমৃদ্ধ স্থান মাহিগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসা করার জন্য এসেছিলেন। বাড়িটি নির্মাণকাল ১৯০৮ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে। ১৯৪৭ সালে জমিদার বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন ৫৫ একর জমিসহ মুল ভবনটিতে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এরশাদের সরকার জমিদার বাড়িতে স্থাপন করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের রংপুর বেঞ্চ। ১৯৯২ সালে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রত্যাহার করার পর ১৯৯৫ সালে জমিদার বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে ন্যস্ত করা হয়। ২০০৫ সালের ২০ মার্চ রংপুর জাদুঘর স্থানান্তর করা হয় তাজহাট জমিদার বাড়িতে।

উত্তর দক্ষিনের প্রকোষ্ঠটির পূর্ব ও পশ্চিমের অংশের পরিমাপ ১২৩/১২০ লম্বা। দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য তিনটি অভিগমন পথ রয়েছে তন্মধ্যে মাঝের অভিগমন পথটি অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত। প্রধান এক তলার বা গ্রাউন্ড ফ্লোরের অংশটিতে ৪টি কক্ষ দেখা যায় এবং এতে সর্বমোট ১১ জোড়া কপাট বিশিষ্ট  দরজা দেখা যায় যা এ প্রাসাদেও প্রকোষ্ঠগুলোতেও অনুরূপভাবে পূর্বেও অংশে ৭টি প্রবেশ দ্বারা সমন্বিত ৩টি বড় বড় কক্ষ  এবং পশ্চিম অংশে জোড়া কপাট বিশিষ্ট দরজাসহ বিরাট হলরুম রয়েছে । এ অংশের প্রায় মধ্যভাগে একটি প্রবেশ ও বর্হিপথ রয়েছে। প্রধান ইমারতের উত্তর অংশের মাঝামাঝি ২য় তলায় ওঠানামার জন্য সুন্দর কাঠের তৈরি ২২টি ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়ি দেখা যায় এবং দক্ষিনের প্রাসাদেও প্রকোষ্ঠটিতেও ২য় তলায় ওঠানামার জন্য লৌহ নির্মিত নকশাকৃত ঝুলন্ত মজবুত সিঁড়ি রয়েছে । সিঁড়িগুলোর রেলিং সুন্দর লৌহ নির্মিত ফুলগাছের মতো দেখা যায়।সম্মুখস্থ প্রধান প্রাসাদটির ২য় তলায় ওঠানামার জন্য একটি বিরাট গ্যালারির মতো সিঁড়ি রয়েছে । সিঁড়িটিকে তিনটি স্তরে বিভক্ত দেখা যায়। প্রথম স্তরে ১টি ধাপ বিরাজমান, ২য় স্তরে ওঠার সময় একটু সমান অবস্থান নেমে আবার ১৪টি ধাপ অতিক্রম করে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন  আয়তাকার প্লাটফরমে ওঠা যায়, যা দ্বিতীয় তলার ছাদের সাথে সম্পৃক্ত ,যাকে ৩য় স্তর হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে।

গল্পে গল্পে আমরা হেঁটে বেড়াই পুরো রাজবাড়ি। রাজবাড়ি আর বাগান বাদে পুরো অংশেই রয়েছে বাগান। ফুল আর ফলের বাগান। কাঁঠাল, আম আর পেয়ারার বাগান। অবশিষ্ট অংশে ফুলের বাগান। নরম সবুজ ঘাস আবৃত করে রেখেছে ফুলের বাগান। বাড়িটিতে নিস্তব্ধতা। বাড়ির বিশালতায় যেন শোনা যায়  প্রাসাদের অতীত রমণীর  নিক্বণ।

দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি ১০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। দেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং পর্যটকরাও জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন। তারা জাদুঘর ও জমিদার বাড়ির পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন বলে জানা যায়।

ভাওয়াইয়া গান আর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্র রংপুরে তাজহাট রাজবাড়িসহ রাজা রামমোহন রায় ও বেগম রোকেয়ার বাড়ি, শাহ সুলতান গাজীর মসজিদ, জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে চিকলির বিল, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, কেরামতিয়া মসজিদ, মিঠাপুকুর মসজিদ, শতরঞ্জির পল্লী রয়েছে দেখার মতো। ঢাকা থেকে ট্রেন ও বাসে রংপুর যাওয়া যায়। রাজধানীর গাবতলীতে এসআর ট্রাভেলস, টিআর ট্রাভেলস, নাবিল, হানিফ, শ্যামলী, এসএ পরিবহনের গাড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস সরাসরি রংপুর যায়।

মইনুল ইসলাম

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0