খুলনায় অ্যাকটিভ সিটিজেনস রিজিওনাল এচিভার্স সামিট-২০১৫ অনুষ্ঠিত



unnamedপলাশ মাহমুদ, খুলনা

তরুণদের শিক্ষিত ও দক্ষ হয়ে ওঠার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক হিসেবে সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো ‘অ্যাকটিভ সিটিজেনস রিজিওনাল এচিভার্স সামিট-২০১৫’।

সোমবার  ব্রিটিশ কাউন্সিল-এর সহায়তায় এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, সুশীলন ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার উদ্যোগে বিভাগীয় শহর খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেন -এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়।

দিনব্যাপী এ সামিটে আগত ছয় শতাধিক অ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার তাদের গৃহীত সামাজিক ১১টি উদ্যোগ প্রদর্শন করে। প্রতিটি উদ্যোগের বর্তমান অবস্থা, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আগামী দিনের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার জন্য পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান সামিটের উদ্বোধন করে করেন এবং সামিটের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন সুশীলন –এর পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান ।

উদ্বোধনী পর্বে আলহাজ মিজানুর রহমান  উপস্থিত ইয়ূথ লিডারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে তোমাদের কিছু অধিকার রয়েছে, একইসঙ্গে সমাজের প্রতি রয়েছে তোমাদের কিছু দায়-দায়িত্ব। তোমরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতে পারো। এতে এক দিকে তোমাদের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন হবে, অন্যদিকে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে। সক্রেটিস ও প্লেটোর একটি গল্পের সারমর্ম টেনে বলেন, ‘নিজ নিজ কাজটি সঠিকভাবে করাই হলো দেশের জন্য কাজ করা। আমাদের সমাজে দু ধরনের মানুষ আছে। একদল হলো সক্রিয় ও সচেতন নাগরিক, অন্যদল নিষ্ক্রিয় নাগরিক। তোমরা যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সক্রিয় নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছো, আমি মনে করি তোমরাই এ রাষ্ট্রের আলোকবর্তিকা।’

সালেহ আকরাম  বলেন, ‘তোমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছ, সমাজ উন্নয়নে তোমাদের অনেক অবদান রয়েছে। তাই নৈতিকতা, জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অর্জন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শাহিন মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে ৩৮টি দেশে অ্যাকটিভ সিটিজেনস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম ও অনন্য উদাহরণ। কারণ এখানকার সোশ্যাল অ্যাকশন কার্যক্রমগুলো বিশ্বব্যাপী সুনাম বয়ে আনছে। আর এটি আমাদের তরুণদেরই অর্জন।’

সভাপতির বক্তব্যে সুশীলন –এর পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন , তরুণেরা ইচ্ছা করলেই সমাজের জন্য অনেক কিছু করতে পারে। পুরো বিশ্বই তাদের জন্য উন্মুক্ত। তাই তারা যেভাবে চায়, সেভাবেই বিশ্বকে গড়ে তুলতে পারে।’ এটি এক অফূরন্ত সম্ভাবনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, একটি শান্তি ও সোহার্দ্যপুর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল-এর সহায়তায় সারাদেশে অ্যাকটিভ সিটিজেনস কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সাথে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ২০০৯ সাল থেকে যুক্ত এবং বর্তমানে এমএমসি, সিসিডি-বাংলাদেশ, উত্তরণ, সুশীলন, ইএইচডিএস, ডেমোক্রেসি ওয়াচ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন এই সাতটি সংস্থা এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। অ্যাকটিভ সিটিজেন কর্মসূচি একদল তরুণ-তরুণীর মাঝে আস্থা ও বোঝা-পড়া সৃষ্টি এবং ইয়ূথ লিডার হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত, সংগঠিত ও ক্ষমতায়িত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই তরুণেরা নাগরিকত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় সম্পৃক্ততা ও বৈশ্বিক সংযুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0