চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ঃ শাটেল ট্রেন আর পাহাড় ঘেরা একমাত্র বিদ্যাপীঠ



চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক

১৯৬৬ সালে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্রগ্রামে স্থাপিত দেশের তৃতীয় বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজীতে বলা হলো University of Chittagong এবং বাংলায় সংক্ষেপে বলা হয় ‘চবি’। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামে পশ্চিম-পট্টি মৌজার ১৭৫৩.৮৮ একর পাহাড়ি এবং সমতল ভূমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বিদ্যাশালা। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়ে ৪৯তম বছর পার করেছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্তানের জনশিক্ষা উপ-পরিচালক মো. ফেরদাউস খান ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন। প্রথমদিকে এ বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, কুমিল্লা ওনোয়াখালিতে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হলেও অবশেষে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কথিত রয়েছে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরী কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের ব্যাবস্থা করেন। ১৯৬১ সালে চট্টগ্রামের সমাজকর্মী বাদশাহ মিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিটি কলেজের অধ্যাপক আহমদ হোসেনরে তত্ত্বাবধানে “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয়। ১৯৬৪ সালের ২৯শে আগস্ট পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সবুজে ঘেরা ব্যবসায় অনুষদ

সবুজে ঘেরা ব্যবসায় অনুষদ

পাহাড় ঘেরা দেশেরর একমাত্র বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ শতাব্দী কাল পরে ৭টি অনুষদে ৪১টি বিভাগের মধ্যে নাট্যকলা,ভাষাবিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, সংস্কৃত, পালি, ফার্সি, মনোবিজ্ঞান, মাইক্রোবায়োলজি, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞানের মত বিভাগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বতন্ত্র করেছে। তাছাড়া ৮টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিশ দেশের বন ও সমুদ্র গবেষনায় অনেক বেশি অবদান রেখে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লুথার কলেজের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ডেবোরা লি নরল্যান্ড আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পাঠক্রম এবং পাঠ্যসূচী পরিচালনা করে দেশে বিশ্বমানের বিদেশী ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে। এছাড়াও অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মা ও শিশু ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি উল্লেখ্যযোগ্য।

শহর থেকে নিজস্ব ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা সমৃদ্ধ দেশের একমাত্র এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্য নির্মানাধীনসহ মোট ৮টি ছাত্র হল এবং ৫টি ছাত্রী হল রয়েছে। দেশের প্রায় সকল বাম-ডানপন্থী ও ইসলামী ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চবিতে দৃশ্যমান। উদীচী ছাড়া আরোও ৪/৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সক্রিয় অবস্থা দেখা যায়। চবিতে ঐতিহ্যবাহী চাকসু, সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি ছাড়া বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক সহ আরও ২০/২৫টি সামাজিক ও সেচ্চাসেবী সংগঠনের সক্রিয় কার্যক্রম দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে।11069880_812493332157413_2119547276890640780_n

মুল ক্যাম্পাসে উল্লেখ্যযোগ্য স্থাপনার মধ্যে প্রচীন সভ্যতার বিভিন্ন সময়কালের বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রে সমৃদ্ধ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাদুঘর, ১৯৭৩ সালের ১৪ জুন এর কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়াও মোট ৫৪০টি নমুনা সংরক্ষনকারী প্রাণিবিদ্যা যাদুঘর এবং দেশের একমাত্র সমুদ্র সম্পদ যাদুঘর, যেখানে হাঙ্গর থেকে শুরু করে বৈদ্যূতিক মাছ, আজব বাণাকেল, অক্টোপাস, শামুক, সাপ সহ প্রায় পাচঁশতাধিক বিস্ময়কর জীব বৈচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগারে রয়েছে বিরল বই, জার্নাল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, পান্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই। তিনতলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগারটিতে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং শিক্ষকদের কাছে একটি জ্ঞানচর্চার আদর্শ স্থান। ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়কে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ভাষ্কর্য।

downloadচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন শিক্ষাবিদ বিভিন্ন মেয়াদে উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন ১,৯০০৭জন। ১৭,৯২৮জন বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থীর মাঝে ছাত্র ১৩,২৫৪জন ছাত্রী ৪,৬৭৪জন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাবর্তনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দুইজন ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়েছে।এর মধ্যে ১৯৮১ সালে আবদুস সালামকে এবং ২০০৮ সালে জামাল নজরুল ইসলামকে ডক্টর অব সায়েন্স সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর চবি থেকে হাজার হাজার শিক্ষাথী সম্মান, মাষ্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী নিয়ে দেশ বিদেশে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও ভর্তির সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চবির ওয়েব সাইট http://www.cu.ac.bd ভিজিট করে জানা যাবে।

চট্রগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ১০কামরা বিশিষ্ঠ দুটি শাটল ট্রেন রয়েছে। এছাড়াও সড়ক পথে কার ও বাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া সুযোগ রয়েছে। তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া, চবির ওয়েবসাইট

আব্দুল্লাহ নোমান

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
31Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0