শিক্ষা উন্নয়নে রেজওয়ানের “ভাসমান স্কুল”



ভাসমান স্কুলশিক্ষা উন্নয়নে তরুণ মোহাম্মদ রেজওয়ানের নৌকার মধ্যে তৈরি করল ‘ভাসমান স্কুল’। রেজওয়ানের তৈরি ‘ভাসমান স্কুল’ প্রশংসিত আন্তর্জাতিক মহলে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে এই স্কুল আর উন্নত বিশ্বে শিশুদের পাঠক্রমেও যুক্ত হয়েছে এই স্কুলের কথা। শিক্ষা উন্নয়নে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে এই ভাসমান স্কুল।

বড় বড় বন্যায় আমাদের দেশের দুই তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নীচে চলে যায়৷ এই বন্যার সবচেয়ে বড় শিকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা৷ বন্যার সময় দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়৷

বন্যাকবলিত শিশুদের পড়াশুনার জন্য রেজওয়ান গড়ে তোলেন “নৌকা স্কুল” যা বর্তমানে ‘ভাসমান স্কুল’ নামে পরিচিত৷ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল এলাকার সিধুলাই গ্রামে প্রথম নৌকা স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষা উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন সেই গ্রামেরই সন্তান মোহাম্মদ রেজওয়ান।

তরুণ রেজওয়ান ১৯৯৮ সালে প্রথমে “!সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা” নামে একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তোলেন তাঁর নিজ গ্রামে৷ গ্রামটি বন্যাকবলিত এবং বড় জলাধারবেষ্টিত৷ রেজওয়ান চিন্তা করলেন, এ জলাধারকেই তাঁর গ্রামের উন্নয়নে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ সে ভাবনা থেকেই তিনি নৌকার মধ্যে স্কুলের নকশা করলেন এবং স্থাপন করলেন ‘ভাসমান স্কুল’।

২০০২ সালে এই  ‘ভাসমান স্কুল’ যাত্রা শুরু করে৷ আর সেই যাত্রায় প্রথমে তাঁর সম্বল ছিল স্কলারশিপের মাত্র ৫০০ মার্কিন ডলার৷ নৌকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে অনেক আগেই ১৪টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে পেয়েছেন সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান৷ভাসমান স্কুল-২

সাধারণ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মতোই নৌকার ভেতরে শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার সবকিছুই আছে৷ বরং এ নৌকা স্কুল সেখানকার ভূমিতে স্থাপন করা অন্যান্য স্কুলের চেয়ে আরও বেশি আধুনিক৷ এ স্কুল কম্পিউটারসহ শিক্ষায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক অনেক ডিভাইস দ্বারা সুসজ্জিত৷ স্কুলের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল৷ এই বিদ্যুতে সন্ধ্যার পরও স্কুলের কার্যক্রম চালানো যায়, গ্রামেও আলো দেয়া যায়৷

এক যুগের ব্যবধানে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার পরিবারের শিশুরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ভাসমান স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করছে৷ ২২টি স্কুলে ১,৮১০ জন শিশু পড়াশুনা করছে৷ Organisation Shidhulai Swanirvar Sangstha in Bangladesh  কম্পিউটারসহ শিক্ষায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক অনেক ডিভাইস দ্বারা এই স্কুল সুসজ্জিত  নৌকা স্কুলগুলোর দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট, প্রস্থ ১১ ফুট৷ একবারে ৩০ জন শিশু পাঠ নিতে পারেন একটি স্কুলে৷ শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও কম্পিউটারসহ তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন৷

ভাসমান স্কুলকে ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত উন্নীত করার স্বপ্নও তাঁর রয়েছে৷ তবে এর জন্য আরও বেশি তহবিল প্রয়োজন৷ এ তহবিলসংগ্রহ অনেক কঠিন৷ সেই কঠিন প্রচেষ্টাই এখন চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ রেজওয়ান৷

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0