শেষ চারে রিয়াল মাদ্রিদ



1276112_heroaচ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ১-০ গোলে জিতে শেষ চারে উঠে গেছে স্পেনের সফলতম ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়েই তো নিশ্চিত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের আরও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল। এই জয়েই ‘ব্ল্যাঙ্কোস’রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইউরোপ-সেরার লড়াইয়ের একাদশতম শিরোপার দিকে।

ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আতলেতিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে চোট আক্রান্ত দল নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। করিম বেনজেমা, গ্যারেথ বেল আর লুকা মদ্রিচের অনুপস্থিতিতে দল গড়াই মুশকিল হয়ে পড়েছিল তাঁর জন্য।

৩২ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফ্রিকিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেওয়া ওবলাক বিরতির ঠিক আগে আরেকবার বাঁচিয়ে দেন দলকে। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জোরালো শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন ওবলাক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। কিন্তু ইসকোর পাস থেকে হার্নান্দেজের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আবার হতাশ হতে হয় স্পেনের সফলতম ক্লাবকে।  ৭৬ মিনিটে বিশাল ধাক্কা খায় আতলেতিকো। তুর্কি প্লেমেকার আর্দা তুরান দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় অতিথিরা।

সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি রিয়ালের। আনচেলত্তির শিষ্যদের একমাত্র গোলটি দারুণ পরিকল্পিত আক্রমণের ফসল। হামেস রদ্রিগেজের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের ভেতর ঢুকে রোনালদো পাস দেন হার্নান্দেজকে। তা থেকেই মহামূল্যবান গোলটি করেন ‘চিচারিতো’ নামে পরিচিত এই স্ট্রাইকার।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে কাছে ১-০ গোলে হারে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

গত মৌসুমে এই রিয়ালের বিপক্ষে লিসবনের ফাইনালে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছিল আতলেতিকোর। এবার ফাইনালে ওঠার জন্য মরিয়া চেষ্টা করা দলটি ৮৭তম মিনিটে হাভিয়ের এরনান্দেসের গোলে ছিটকে পড়ে। সবকিছুর পরও ম্যাচ শেষে দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান সিমেওনে।

“আমি আমার দলকে নিয়ে গর্বিত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো কঠিন একটি প্রতিযোগিতায় আবার আমরা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ইউরোপের সেরা আট দলের মধ্যে থাকা সহজ নয়।”  রিয়ালের কাছে হারলেও মনের মধ্যে নেতিবাচক কিছু নেই বলে উল্লেখ করেন সিমেওনে।

আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা যেমন ফুটবল উপহার দিয়েছে, তাতে অন্য অনেক কোচই হিংসা করবেন বলে মনে করেন তিনি। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আরদা তুরান লাল কার্ড দেখেন। এরপরই গোল খায় আতলেতিকো। তবে এটাকে ফল নির্ধারক মনে করছেন না সিমেওনে।

অবশেষে মাদ্রিদ-ডার্বিতে বিজয়ীর নাম রিয়াল মাদ্রিদ! গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-১ গোলে হারালেও এ মৌসুমে একবারও নগর-প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে পারেনি রিয়াল। সাতটি মুখোমুখি লড়াইয়ে চারটিতেই জিতেছিল আতলেতিকো। বাকি তিনটি ড্র হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আতলেতিকো-‘জুজু’ কাটিয়ে জয় পেয়েছে রিয়াল। গত সপ্তাহে প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।  সেমিফাইনালে উঠেছে জুভেন্টাসও। বুধবার রাতের অন্য ম্যাচে মোনাকোর মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ফিরলেও প্রথম লেগে ১-০ গোলের জয় শেষ চারে পৌঁছে দিয়েছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের।   চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১০ বারের শিরোপাজয়ীরা অবশ্য অনেক আগেই গোল পেতে পারত। কিন্তু আতলেতিকোর স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বাগতিকদের সামনে।

মোনাকোর ঘরের মাঠে মোনাকোকে আটকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে পৌঁছে গেল জুভেন্টাস৷ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মোনাকোর বিরুদ্ধে ১-০ জিতেছিলেন কার্লোস তেভেজরা৷ আর্তুরো ভাইদালের পেনাল্টি থেকে গোলের সুবাদে ঘরের মাঠে জয় এসেছিল৷ এদিন ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ এগিয়ে ২০০৩-এর পর ফের শেষ চার নিশ্চিত করল জুভেন্টাস৷  এদিন ম্যাচে মোনাকো আধিপত্য বজায় রাখলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি৷ জুভেন্টাস গোলকিপার বুঁফোর অসাধারণ পারফরম্যান্সে একাধিকবার গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় সিরি এ-র শীর্ষে থাকা দল৷ ১৯৯৬ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি ঘরে তুলেছিল জুভ৷ জয়ের পর জুভেন্টাস ডিফেন্ডার প্যাট্রিস এভরা বলেন, ‘এই রাতটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ ছেলেরা অনেকটা চাপ নিয়েই খেলছে৷ কারণ ১২ বছর পর শেষ চারে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল৷ আর ফেভরিট হিসেবে আমরা নেমেছিলাম৷ ইতালীয় ঢঙে কোয়ালিফাই করে গেলাম৷’

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0