সন্তানের বিয়ের সময় ঈমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) যা বলেছিলেন



tumblr_me4pnl6lxC1rwr43fo1_500প্রিয় সন্তান, দশটি গুন অর্জন করতে না পারলে পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। সুতরাং সেগুলো মনে রেখো, অর্জন করো এবং প্রবলভাবে সেগুলোর উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো।

প্রথম দুটি হলো: নারীরা আকর্ষন প্রত্যাশী এবং নিজের প্রতি কারো ভালোবাসার সরাসরি প্রকাশ করাকে পছন্দ করে। সুতরাং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কার্পন্য করো না। যদি তেমনটি করো তবে তা তোমাদের মধ্যে দূরুত্ব তৈরির মাধ্যমে সম্পর্কটিকে কৃত্রিম করে ফেলবে।

তৃতীয়ত: নারীরা কঠোর এবং অতি সতর্ক পুরুষদের পছন্দ করে না, যদিও কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই এগুলোর মধ্যে সামাঞ্জস্য করো। এতে ভালোবাসা আসক্তি আসবে, যা তোমাদের প্র্রশান্তি দিবে।

চতুর্থত: তারা তোমাদের কাছে সেটাই আশা করে, যেটা তোমরা তাদের কাছে আশা করো। যেমন: সুমিষ্ট বচনভঙ্গি, পরিপাটি ও পরিছন্ন পোষাক এবং মনমুগ্ধকর ঘ্রাণ। তাই এমন অবস্থায় থাকার চেষ্টা করবে।

পঞ্চমত: মুলত ঘর থাকে রমনীদের কর্তৃত্বে, তখন সে একজন কর্তৃত্বশীল রানীর মতই নিজেকে মনে করে। তাই ঘরে তার কর্তৃত্বে বাঁধা দিয়ে তার রাজত্বটি ধ্বংস করা থেকে সর্তক থেকো। একজন রাজা সবচেয়ে বেশি রেগে যায় যখন অন্য কেউ তার কর্তত্বের উপর ছড়ি ঘুরায়। যদিও সে কোন অযৌক্তিক কিছু করে থাকে। তাই ঘরে নারীদের কর্তৃত্বের উপর জোর জবরদস্তি চালাবে না।

ষষ্ঠত: নারীরা তাদের সহধর্মকে ভালোবাসতে চায়, একই সাথে সে তার বাবার বাড়ীর পরিজনকে হারাতে চায় না। তাই কখনো নিজের সাথে তার পরিবারের তুলনা করতেও যেও না, কারন তখন হয় তোমাকে নয়ত তার পরিবারের যেকোন একটি হারানোর আশঙ্কায় সে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবে। যেটি তোমার এবং তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

সপ্তমত: নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে। এটাই মুলত তাদের সৌন্দর্যের রহস্য, যা তাদের প্রতি সবাইকে আকর্ষিত করে। আর এটা তাদের কোন দূর্বলতাও নয়। যেমন, “চোখের ভ্রু গুলি বাঁকা, একারনে এটি দেখতে অনেক বেশি সুন্দর”। যদি তারা কখনো ভুল করে ফেলে তবে অভদ্রভাবে তিরষ্কার করো না, যেটাতে মুলত সরলপথে আনার কোন চেষ্টা না থাকে। তাহলে তুমি আসলে তাকেই ভেঙ্গে দিলে। আর তাকেই ভেঙ্গে দিলে মানে কার্যত তার বিচ্ছেদ। একই সাথে তাকে তার ভুল গুলোর উপর ছেড়ে দিয়ো না। এটি করলে তার ভুলগুলো দোষে পরিনত হবে এবং তা তার অহংবোধকে আরো উদ্ধত করে দিবে। ফলে সে তোমার প্রতি আর উদার থাকবে না। তোমার কথা শুনবে না। তাই মধ্যমপস্থা অবলম্বন করো।

অষ্টমত: নারীদের স্বভাব এটাই যে, তারা তাদের সহধর্মের সহচার্য চায় এবং এ বিষয়ে কোন অনুযোগ পছন্দ করে না। তুমি যদি সারা জীবনও তার প্রতি সহানুভুতিশীল থাকো কিন্তু একবার যদি দুঃখ দিয়ে ফেল, তখন সে হয়তো বলে বসবে, “আমি তোমার কাছে কখনো ভালো কিছু পাই নি।” তাদের এহেন মনোভাব যদি তোমার পছন্দ নাও হয় তবুও তাকে অপছন্দ করো না অথবা তার থেকে দূরে চলে যেও না। হয়তো তার অন্য ভালো স্বভাবগুলো তোমাকে প্রশান্তি দিবে। সুতরাং সমতা বিধান করো।

নবমত: আবশ্যই এমন কিছু সময় থাকে যখন নারীদের শারীরিক ও মানসিক দূর্বলতা এবং অবসাদ কাজ করে। যেমনটি আল্লাহই সেই সময়গুলোতে তাদের কিছু ফরজ ইবাদত থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের পুরোপুরি নামাজ আদায় থেকেও অব্যাহতি দিয়েছেন এবং আরো কিছু বাধ্যবাধকতা দিয়েছেন তোমাদের জন্য, যতক্ষণ না তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে স্বাভাবিক হয়। তাই এই সময়টিতে তাদের সাথে গভীরভাবে ধার্মিক আচারণ করো। যেভাবে আল্লাহ তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সেভাবে তোমারও উচিত সেই সময় তার ব্যাপারে তোমার বিধানগুলো মেনে চলা।

শেষত: মনে রেখো, নারীরা তোমাদের অধীনস্থ, তাই তাদের প্রতি অনুগ্রহশীল থেকো।

আব্দুল্লাহ নোমান

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0