বাংলাদেশের তরুণরাই তৈরি করবে ভবিষ্যতের গুগল-ফেসবুকঃ সজীব ওয়াজেদ



youthbd24.comvবাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে থেকেই ভবিষ্যতে গুগল-ফেসবুকের মতো ওয়েবসাইট এর নির্মাতা উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।

একটা সময় গেছে- যখন প্রযুক্তিনির্ভর সেবার উদ্যোগ নেয়া হলেও পর্যাপ্ত মার্কেটপ্লেসের অভাবে উৎসাহ হারাতো হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা। তাই সরকারি উদ্যোগে এই প্রথম তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য গড়ে তোলা হলো সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। “লেগে থাকার মানসিকতা নিয়ে মেধা ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটালে সফলতা আসবেই। “আপনাদের যে অভিজ্ঞতা আছে সেটা আমারও হয়েছে। সিলিকন ভ্যালিতে একটা কথা আছে, কারো প্রথম স্টার্টআপ কখনো সফল হয়নি। তবে আবার চেষ্টা করতে হয়। একবারে পড়ে গেলে হয় না। উঠে দাঁড়িয়ে আবার চেষ্টা করতে হয়। “একবার, দুবার, তিনবার- চেষ্টা করতে থাকলে, নিজের মেধা থাকলে সফলতা একসময় না একসময় আসবেই। এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা।”

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, প্রথম কোম্পানি খোলার পর তিনি নিজেও সফল হতে পারেননি। তবে হাল না ছেড়ে একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় সাফল্য ঠিকই ধরা দিয়েছে। “আমি কিন্তু আপনাদের মতনই একজন উদ্যোক্তা। আমি বসে থাকতে পারি না। শুধু চাকরি করে আমি শান্তি পাই না। আমি চাই নিজের উদ্যোগেই কিছু করার।”

অনুষ্ঠানে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বরাদ্দ পাওয়া প্রথম চারটি কোম্পানিকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পার্কের চতুর্থ তলায় ‘স্টার্টআপ ইনকিউবেটরে’ জায়গা বরাদ্দের জন্য ‘কানেকটিং স্টার্টআপস’ শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আপনাদের মধ্যে যে উদ্যোক্তারা আছেন, জনতা টাওয়ারে যারা প্রথম আসবেন, আপনাদের আমি শুভেচ্ছা জানাই যে, আপনাদের স্টার্টআপও ভালো করবে।”

আশির দশকে ভারতের ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যাঙ্গালোরে তখন সবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো আসতে শুরু করেছে। তখনই ভারতের নিজস্ব আইটি স্টার্টআপগুলো গড়ে ওঠে ব্যাঙ্গালোরে। আর আজ ব্যাঙ্গোলোর কি হয়েছে আপনারা সবাই জানেন।” বাংলাদেশেও তেমন কিছু করার স্বপ্ন তখন থেকেই দেখতে শুরু করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর ছেলে।

তিনি বলেন, “ভারত বা মালয়েশিয়া আইটি খাতে যেভাবে এগিয়ে গেছে তেমনভাবে বাংলাদেশকেও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।” আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রূপকল্প-২০২১’ ঘোষণা করে, যার একটা অংশ ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন- ছোট-বড় বিভিন্ন কোম্পানির পাশাপাশি উদ্যোগী তরুণরাও যেন লাভবান হতে পারেন সেই ব্যবস্থাও থাকছে পার্কে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমসহ বিভিন্ন সিস্টেমগুলোকে ইতোমধ্যেই ডিজিটালাইজ করা হয়েছে বলে জানান জয়।

“আওয়ামী লীগ সরকারের মূল উদ্দেশ্য মানুষের সেবা করা। ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়ে আমরা দেশের মানুষের উন্নয়ন ও সেবা কীভাবে করতে পারি। “তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের চুড়ান্ত লক্ষ্য ছিল দেশে আইটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা। এটা খুবই আনন্দের যে, আজকে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন করতে এসেছি।”

তরুণ প্রজন্মকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সাফল্য পাওয়ার চেষ্টায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানে বলেন, “গুগল, ফেইসবুকসহ পৃথিবীর বড় বড় কোম্পানিগুলো ‘স্টার্টআপ’ হিসেবেই শুরু করেছিল।”

এ সময় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন- ভবিষ্যতের জন্য স্বাবলম্বী ও ‘প্রযুক্তিদক্ষ’ জনশক্তি গড়ে তুলতে সফটওয়্যার পার্কে বিনামূল্যে ফ্লোর বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর বিসিসি ভবনে স্পেশাল ইফেক্ট অ্যান্ড অ্যানিমেশন ল্যাব উদ্বোধন করেন তিনি।

খবরঃ বাসসের

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0