ইসলাম ও সমসাময়িক চিন্তা



ইয়ুথ বিডিহযরত আদম(আ) কে সৃষ্টির সময় আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তাদের সাথে কথা বলে দিয়েছিলেন, তাকে তথা আদম(আ) কে প্রতিনিধিত্ব  করতে হবে। আর এই প্রতিনিধিত্ব টা হবে আল্লাহর। শুধু তাই নয় তাকে সমস্থ কিছুর উপরে শ্রেষ্ঠ হিসেবেও প্রমানিত করলেন, এবং সেই মুহুর্তে শয়তান আল্লাহর সাথে নাফরমানি করার কারনে বিতারিত হয়েছিল। লাঞ্ছিত করে নামিয়ে দেয়া হয় এই পৃথিবীতে। তখন আদম(আ) আল্লাহর জান্নাতেই ছিলেন। ইতোপূর্বে শয়তান অবাধ্য জ্বীন জাতিকে পৃথিবী থেকে ধ্বংস করার কাজে কৃতকার্য হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম উথান পতনে শয়তান এর জেদ কোন ভাবেই কমলো না, বরং সে প্রতিজ্ঞা করে বসলো যেকোন মূলেয় হোক আদম ও তার বংশধরকে জান্নাত থেকে দূরে রাখবে। অতপর শয়তান আল্লাহর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিল যে, সে যেকোনো পন্থায় আদম ও তার বংশধরদের ধোঁকায় ফেলতে পারে। এমন কি আদম সন্তানের রক্তের নালিতে পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি নিয়ে নিলেন।

এভাবে আল্লাহর সাথে শয়তান চ্যালেঞ্জ করে আসলেন যে করেই হোক আদম সন্তানের জান্নাতের পথ রুদ্ধ করবেই সে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা ও বলে দিলেন আমার অনুগত বান্ধাদের তোমার ধোঁকা থেকে আমি বাচিয়ে রাখবো। তখন থেকে শয়তান মানুষ কে মরন কামর দিয়ে প্রতারনার জালে আটকাতে ব্যস্ত। অপর পক্ষে মানুষ কে সৃষ্টি করা হয়েছিল মন্দের প্রতি দূর্বল করে আর তাইপরকালে মানব জাতির জন্য বিশাল পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে ।

যাই হোক সৃষ্টির আদিকাল থেকেই অনেক জাতি এই পৃথিবীতে বসবাস করে গেছেন। শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়ে কোন জাতি যখন অন্ধকারে হাতরিয়ে মরছিল, পাচ্ছিলনা আলকিত পথ, না কোন সমাধান, তখনই মানব জাতির মহান সৃষ্টিকর্তা ঐ জাতির মধ্য থেকেই বাছাই করে একজনের হাথে ধরিয়ে দিয়েছিলেন আলোর মশাল। আর সৃষ্টিকর্তার দেওয়া নিতিমালা আর নিয়ম পদ্বতির দ্বারা পরিচালিত করে সেই মশালধারীরা সুপথে নিয়ে এসেছিলেন গোটা জাতিকে। আর এই নিতিমালাকেই বলা হয় ধর্ম এবং এই মশালধারীরা হলেন আমাদের নবী রাসুলগন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এসেছিলেন আলোর মশাল হাতে নিয়ে সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মাদ (সা)। তিনি এসেছিলেন এমন একটি সমাজ ব্যবস্থায় যা  বর্বরতায় ও নোংরামিতে ছিল পৃথিবী কাঁপানো। লোমহর্ষক রীতিনীতি আর অবর্ণনীয় প্রথা পদ্বতিতে সমাজের ঘাড় ছিল মটকানো। থুবড়ে পড়েছিল সামাজিক অধিকার, নড়বড়ে ছিল নেতৃতের কলকাঠি। যেই মানুষ গুলোর মা এবং স্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা ছিলনা, মদ জুয়া ছিল যাদের অর্থনৈতিক কাঠামো, যুদ্ধ করে যারা পেটের ভাত হজম করত, সেই মানুষ গুলো একসময় এমন সোনার মানুষে পরিনত হল, যাদের নাম ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা আছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে কি এরকম জিনিস, তাদের কে মহান আসনে আসীন করল? নেতার এমন অদ্ভুত আনুগত্ব, নারীর প্রতি অভূতপূর্ব সম্মান এবং আমানতদারীতার মহান দৃষ্টান্ত তাদের অন্তরে কে স্থাপন করল? হাজার বছরের গবেষণার উত্তর একটাই বের হয়েছে আর সেটি হল –আল কুরআন, যা মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু বর্তমান অবস্থা বিচার করলে দেখা যাবে যে, ধর্ম শব্দটি এমন একটি বিশেষ অবস্থানে পৌঁছেছে, যার নাম শুনলেই মসজিদ, ইমাম সাহেব ইত্যাদি। কারো মনে উদয় হয় এইতো মাদ্রাসা হুজর, কেও কেও অত্যধিক ভীত হয়ে মাথায় নিয়ে আসে জঙ্গি, বোমা, অস্র ইত্যাদির কল্পনা মোটকথা অধিকাংশরাই ধর্মের ব্যপারে অত্যন্ত নিচু এবং সীমিত ধারণা পোষণ করে থাকেন, অথচ এই ধর্মই দিয়েছিল মানব জাতির যাবতীয় সমস্যার সমাধান। এই ধর্মই পথ হারা জাতিকে পথ দেখাতে সক্ষম হয়েছিল। রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবারের প্রত্যেকটি কাঠামোতে এমন শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল তা বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, সভ্যতা, পররাষ্ট্রনীতি, সিমান্তনীতি থেকে শুরু করে যত নীতি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল বা বর্তমান আছে সব কিছুই ইসলাম ধর্মের নীতির নিকট তুলনাতীত। তা আজ ইতিহাস জান্ত্যা জাতির নিকট সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

স্বার্থবাদীরা আজ রাতের ঘুম বাদ দিয়ে আদাজল খেয়ে নেমেছে, কারন তাদের চলার পথে প্রধান অন্তরায় হল ধর্ম। ধর্ম যেখানে অনুপস্থিত, রাজনীতি সেখানে অশান্ত, সংস্কৃতি অসুস্থ আর সভ্যতা কালিমাখা। এই ফাকেই শোষণবাজ্রা করতে পারে তাদের রাজ্যের বিস্তার। পশ্চিমা সার্থবাদীরা শুধু একটি লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে, হয় ইসলাম কে বিকৃত করে দিতে হবে অথবা চিরতরে খতম করে দিবে। মুসলিম দেশ সমুহের মধ্যে বিভিন্ন ফাঁদ বসিয়ে তিলে তিলে গ্রাস করে নিচ্ছে, ধ্বংস করে দিচ্ছে তাদের সভ্যতা, পিছিয়ে দিচ্ছে অর্থনৈতিক কাঠামো আর মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে সংস্কৃতির সুস্থধারা, একের উপর অন্যকে লেলিয়ে দিয়ে ফাটিয়ে দিচ্ছে মুসলিম ঐক্য।

যেই ইসলাম আর তার মূলমন্ত্র কুরআন সারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেই কুরআন কিন্ত আজও ঘুমায়নি। নিরবে নিরবে ডাকছে আর ডুকরে ডুকরে কেঁদে বলছে আবার তোমরা জেগে উঠ অসহায় মজলুমরা তোমাদের জন্য অপেক্ষমাণ। তারা শুধু প্রহরের পর প্রহর জেগেই যাচ্ছে আর ফরিয়াদ করছে কেউ যেন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে জালিমের কবল থেকে।

ইমরান মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0