তারুন্যের জন্য ক্যারিয়ার



YCC_Logoপ্রযুক্তির হাত ধরে দেশে সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বড় হচ্ছে বাজার। বাড়ছে প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার লড়াইয়ের সিংহভাগই কিন্তু ভিডিও এডিটরদের হাতে। টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি দেশে এখন প্রায় ৬৫০-এর অধিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানিসহ ঢাকা ও বড় শহরগুলোয় রয়েছে অসংখ্য মাল্টিমিডিয়া প্রডাকশন হাউস। এসব টিভি চ্যানেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন রয়েছে আর্কিটেকচারাল ভিজুয়ালাইজেশন, অ্যানিমেশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন জানা প্রচুর দক্ষ জনবলের। বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত নাটক, বিজ্ঞাপন ও সংবাদে ভিডিও এডিটরদের দক্ষ এডিটিংয়ের ছোঁয়া অনুষ্ঠানগুলোকে করে তোলে দৃষ্টিনন্দন ও প্রাণবন্ত। যার সঙ্গে দর্শকের ভালোলাগা আর মন্দলাগার অনেকটাই জড়িয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে এই পেশারও বেড়েছে চাহিদা। বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এমন সৃজনশীল পেশার প্রস্তুতি নেওয়া যাক আজ, চলুন

কাজের ক্ষেত্র
সৃজনশীলতা বরাবরই আপনাকে আকাশ ছোঁয়াতে পারে। ‘মানুষ তার স্বপ্ন সমান বড়।’ এই স্বপ্নের পথে বড় হতে পারে কেবলই সৃজনশীলতার হাত ধরে। তাই আপনি শুরু থেকেই চমকপ্রদ এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেই পারেন। আপনি আপনার সৃজনশীল কাজ দিয়ে একটি সিনেমাকে বহুগুণ আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। বর্তমান হলিউডের প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রই অ্যানিমেশনের হাত ধরে পরিপাটির লেবেল হতে পারে। তাই তো অ্যানিমেশন মাস্টারদের ক্যারিশমাতে ভর করা হলিউডের সঙ্গে বলিউড, ঢালিউডের এতটা ফারাক! বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এখনও অ্যানিমেশনের তেমন কোনো ছোঁয়া পড়েনি, হাতেগোনা কিছু কাজ হয়েছে মাত্র। দেশে যে পরিমাণ সৃজনশীল জনবল রয়েছে তাদের আধুনিক একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারলে, অচিরেই এ দেশের নির্মাতারা সাধারণ জনগণকে হলিউডের মতো চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবেন। এর জন্য বিদেশের উদাহরণের চেয়ে আপনি চোখ বন্ধ করে দেশের প্রতিভাগুলোর দিকে তাকান। এ ক্ষেত্রে খুব সহজেই আপনি পেয়ে যাবেন বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেটর মো. নাসিফকে। তাকেও আপনি আপনার সামনে বসাতে পারেন। বাংলাদেশের এই অ্যানিমেটর পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড। আর আপনি একটু চোখ-কান খোলা রাখলে নিজেই আন্তর্জাতিক চাকরি জুটিয়ে ফেলতে পারেন। বিশ্ববিখ্যাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স, ওয়াল্ট ডিজনির মতো বিখ্যাত সংস্থাগুলো এখন আমাদের অ্যানিমেশন নিয়ে রীতিমতো আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ ছাড়া নিজস্ব ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতে পারেন। আর সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ফার্ম এবং ওয়েবসাইট তো বসেই আছে আপনার প্রতীক্ষায়!

বেতন-ভাতা
দেশে টিভি চ্যানেল দিন দিন বাড়ছে। এই বাড়াটা স্বাভাবিক। এখনও আমাদের আরও অনেক চ্যানেল দরকার। এ টিভি চ্যানেলগুলোয় বিপুলসংখ্যক ভিডিও এডিটর দরকার। দক্ষ লোকের অভাবে চ্যানেলগুলো এখন অদক্ষ ভিডিও এডিটরদের কিছুদিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে চাকরিতে নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে বর্তমান সময়ে ভিডিও এডিটরদের ব্যাপক চাহিদা গড়ে উঠেছে। একজন দক্ষ ভিডিও এডিটর চাকরির পাশাপাশি পার্টটাইম বিভিন্ন প্রডাকশন হাউসে কাজ করতে পারেন। বিভিন্ন চ্যানেলে নতুন অবস্থায় একজন ভিডিও এডিটর মাসিক পারিশ্রমিক হিসেবে ১৮-২০ হাজার এবং পরবর্তী সময়ে তা ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকাও হতে পারে। যত বেশি চ্যানেল তত বেশি নাটক, সিনেমা আর অ্যাডভার্টাইজ। তাই ভিডিও এডিটরদের পাশাপাশি অ্যানিমেটরদের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। দক্ষ অ্যানিমেটররা ভালো কাজ প্রদর্শন করে দেশে বসেই উন্নত দেশগুলোর প্রডাকশন হাউসগুলোয় ভালো বেতনে চাকরি করতে পারেন।

যেখানে শিখবেন
অ্যানিমেশন শেখানোর জন্য দেশে তেমন কোনো ভালো প্রতিষ্ঠান এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান শিখিয়ে নিয়ে চাকরি দেয়। এর মধ্যে টুন বাংলা, ড্রিমার ডংকি, অগি্নরথ, ক্লিক স্টুডিও, অ্যানিমিডিয়া অন্যতম। চাইলে এসব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আগ্রহের কথা জানাতে পারেন। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এরিনা মাল্টিমিডিয়া, গ্গ্নোব কিডস, সফটএজ লিমিটেড, পেন্টাসফট, ড্যাফোডিল, আপটেক অ্যারিনা, হাইটেক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে আপনি অ্যানিমেটর হতে পারেন।

এ ছাড়া ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচারাল ভিজুয়ালাইজেশন, ডিপ্লোমা ইন থ্রিডি অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিজুয়াল এফ/এক্স এবং ডিপ্লোমা ইন ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিখে কাজ শুরু করতে পারেন। এ ছাড়া ৩-৬ মাস মেয়াদি থ্রিডি ম্যাক্স, মায়া, মাল্টিমিডিয়া, ম্যাক্রোমিডিয়া ফ্ল্যাশ, ভিডিও অ্যাডিটিং, অটোক্যাড, গ্রাফিক ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, প্রফেশনাল আউটসোর্সিং অন গ্রাফিক/অ্যানিমেশন/গেম ডিজাইনের ওপর সার্টিফিকেট কোর্স করেও আপনি আপনার সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে পারেন।

তবে ভিডিও এডিটিং একটি সৃজনশীল কাজ। তাই যে যত বেশি প্র্যাকটিস করবেন, যত বেশি টেলিভিশন দেখবেন তিনি তত ভালো ও নিখুঁত কাজ দেখাতে পারবেন।

প্রস্তুতি শেষে
সারাবিশ্বে অ্যানিমেশন নিয়ে চলছে তোলপাড়। মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার বাজেটের সিনেমা, গেমস থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন, কার্টুন, লোগোসহ কি-না তৈরি হচ্ছে অ্যানিমেশনে। অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রির প্রচার ও প্রসার ঘটছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অ্যানিমেটরের চাহিদাও বাড়ছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এই পেশাটিকে গুরুত্বের মধ্যেই আনতেন না কেউ। টেলিভিশন তো বটেই, এখন বড় পর্দাতেও অ্যানিমেশন নিয়ে রীতিমতো বড় বাজেটের কাজ হচ্ছে। আর যে কোনো কাজেই পড়াশোনার বিকল্প নেই। মাল্টিমিডিয়া জগতে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে কোনো সঠিক মাপকাঠিতে মাপা সম্ভব নয়। কারণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যার জ্ঞানের পরিধি যত বিস্তৃত তিনি তত কাজের বিস্তার ঘটিয়ে সাফল্য পকেটে পুরতে পারবেন।
আজ থেকেই কাজের শৈল্পিক নান্দনিকতা বাড়াতে আপনার মেধা কাজে লাগিয়ে এই পেশাটাকে আপন করতে পথে নামুন।

সুত্র-সমকাল।

Facebook Comments
It's only fair to share...Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
0